← সকল সংবাদে ফিরে যান
জামিনপ্রাপ্ত ৬ শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তাদের ৫ ডজন সহযোগীর দাপটে কাঁপছে ঢাকা, নেপথ্যে বিদেশের ‘বড় ভাই’!
📅 2026-04-23📂 খুন📍 ঢাকা
সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশে ৮৫৪টি এবং ঢাকায় ১০৭টি খুনের পর জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনেই রাজধানীতে আরও ১৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এছাড়া গত শুক্রবার রাঙ্গামাটিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে ধর্মসিং চাকমা নামের এক ব্যক্তি নিহত এবং দুই নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির কারণেই এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সরকারের তালিকাভুক্ত অন্তত ৬ শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিন পেয়ে দেশ-বিদেশে অবস্থান করে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। এদের মধ্যে কিলার আব্বাস, পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, খোরশেদ আলম ওরফে ফ্রিডম রাসু এবং ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কিলার জসিম অন্যতম। বর্তমানে থাইল্যান্ড, দুবাই, সুইডেনসহ বিভিন্ন দেশে বসে ‘হুন্ডি’র মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার চাঁদা নিচ্ছে তারা। টাকা না দিলে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি রায়েরবাজারে দুই যুবককে খুন এবং মোহাম্মদপুরে প্রকাশ্যে এলেক্স ইমন নামের এক সন্ত্রাসীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পিচ্চি হেলালের নাম এসেছে। অন্যদিকে, এলিফ্যান্ট রোডের ব্যবসায়ী এহতেশামুল হককে চাপাতি দিয়ে কোপানোর নেপথ্যে রয়েছে ইমনের লোকজন। এছাড়া পুরান ঢাকায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফের সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে এসেছে। মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় মফিজুর রহমান মামুন ও শাহাদাত ওরফে সাধুর নির্দেশে তৈরি হয়েছে 'ফোর স্টার' নামের গ্যাং, যারা কাফরুলের একটি গার্মেন্টসে ১ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে গুলি ও ভাঙচুর চালিয়েছে।
রাজধানীর ফার্মগেট, কাওরানবাজার, খামারবাড়ি, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরসহ ২০টি এলাকায় অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী সহযোগী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ফার্মগেট ও কাওরানবাজার এলাকায় বাদশাহ, আহাদ, সিদ্দিক ও রবিনসহ একদল সন্ত্রাসী ওয়াসা, তিতাস ও খামারবাড়ির সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং কাওরানবাজারের আড়ত ও ট্রাক থেকে দৈনিক লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলছে। ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ইব্রাহিম, মুন্না, কিলার বাদল ও লেদু হাসানসহ প্রায় ২৬ জন সন্ত্রাসী মাদক কারবার, কন্ট্রাক্ট কিলিং এবং কিশোরদের দলে ভিড়িয়ে নেটওয়ার্ক বাড়াচ্ছে। টেন্ডার ও চাঁদাবাজির জেরে সোমবার ক্যানসার হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিট দফায় দফায় বৈঠক করছে। পুনর্গঠন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটি। বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র (এআইজি, মিডিয়া) এএইচ এম শাহাদাৎ হোসাইন জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে এবং জামিনপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আপনার পরবর্তী সংবাদের জন্য অপেক্ষা করছি।
সোর্স লিংক দেখুন →