← সকল সংবাদে ফিরে যান
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের আগ্রাসী নীতি ও ত্রৈমাসিক মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি'
📅 2026-06-13📂 অন্যান্য📍 ঢাকা🏷️ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটলেও ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসের (জানুয়ারি-মার্চ) মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা 'অধিকার'। গত ২০ মে প্রকাশিত সংস্থাটির ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও ভারতের অব্যাহত আগ্রাসনের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন নিহত ও ১,৩৬৮ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল গণনা ও ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ওঠায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৩৬টি আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে। এছাড়া ভোটের পর জয়ী দল বিএনপির সমর্থকদের দ্বারা পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটের ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই তিন মাসে ৪ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, সেনাবাহিনী কর্তৃক ২১ জন গণমাধ্যমকর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং জেলখানায় দুর্নীতি ও সুচিকিৎসার অভাবে ২১ জন কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং আইনি সংস্কারের ক্ষেত্রেও বড় সংকট দেখা গেছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬ ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ৬৪ জন সাংবাদিক হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংসদে বিল হিসেবে পেশ না করায় সেগুলো বাতিল হয়ে গেছে, যা রাষ্ট্রকে পুনরায় স্বৈরাচারী কাঠামোর দিকে ধাবিত করছে বলে মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন।
একই সাথে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের আগ্রাসী নীতি ও অপপ্রচার নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিন মাসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ১ জন বাংলাদেশি নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৭ জনকে অবৈধভাবে পুশ-ইন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বাংলাদেশ বিরোধী গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যার জেরে ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইপিএল থেকে ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি উত্তরণে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ভারতের আধিপত্যবাদী আচরণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার সুপারিশ করেছে 'অধিকার'।